ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিআরটিএ’র দূর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ-আলম কারাগারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূর্নীতির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ এর সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

 বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় থ্রি হুইলার এবং ১১শ মিনি ট্রাক ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম।

 

আজ ২৬ জানুয়ারী এ আদেশ দেন বিজ্ঞ জেলা ও  দায়রা জজ আদালত। অবৈধ যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও অবৈধ সম্পদ অর্জন কারায় গত বছর একটি মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহ-আলম প্রায় ১২শ অবৈধ গাড়ির লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছেন।শাহ আলমের মতো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তারাও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির আঁখড়া বানিয়েছেন বিআরটিএকে।

 

গত ৮ বছরে শাহ-আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরে বছরে বিআরটিএতে প্রায় ২০কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ  অভিযোগে পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএর দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাহ-আলম।

 

এর পূর্বে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থেকে প্রায় ৯থেকে ১হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেই মার্চে ৪টি (এপ্রিলে ২টি), (মে ৫টি),(জানুয়ারি মাসে ২১টি),(জুলাই মাসে ৪৫টি), (অক্টোবর মাসে১০টি) অর্থাৎ ২২সালের মার্চ হইতে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিষ্ট্রেশন করেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শাহআলমের অর্পকর্মের বিরুদ্ধে উপ পরিচালক (প্রশাসন) ঢাকা তিনি গত ২৯/১১/২০২২সালে, ৩৫,০৩,০০০০,০০১,২৭,০২২৭ স্বারক নাম্বারে ৩ জনের একটি কমিটি করে ১৫ দিনের ভিতর তদন্ত প্রতিবেদক জমা দিতে আদেশে উল্লেখ করেন। তবে অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করেননি শাহ-আলম।

 

এদিকে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন সময় তিনি পূনরায় আবার ২২সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর বরিশাল-ন-১১-০৭২০, বরিশাল-ন-১১-০৭৪৮,  নাম্বারসহ প্রায় ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন  প্রদান করেন।

 

যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটিএর আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের বিনিময় এসব রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহআলম।

 

উল্লেখ্য অবৈধভাবে যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন করার অপরাধে দুদকের করা মামলায় শাহ-আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন। তবে আজ সেই মামলা থেকে শাহ-আলম স্থায়ীভাবে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

বরিশাল বাণী’র সম্পাদক মামুন-অর-রশিদ এর শুভ জন্মদিন

বিআরটিএ’র দূর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ-আলম কারাগারে। 

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূর্নীতির ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএ এর সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

 

 বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলায় থ্রি হুইলার এবং ১১শ মিনি ট্রাক ভূয়া রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেন সাবেক সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ-আলম।

 

আজ ২৬ জানুয়ারী এ আদেশ দেন বিজ্ঞ জেলা ও  দায়রা জজ আদালত। অবৈধ যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন প্রদান ও অবৈধ সম্পদ অর্জন কারায় গত বছর একটি মামলা দায়ের করে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সহকারী পরিচালক শাহ-আলম প্রায় ১২শ অবৈধ গাড়ির লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছেন।শাহ আলমের মতো চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী থেকে শুরু করে বড় কর্মকর্তারাও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দুর্নীতির আঁখড়া বানিয়েছেন বিআরটিএকে।

 

গত ৮ বছরে শাহ-আলমের বিরুদ্ধে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুরে বছরে বিআরটিএতে প্রায় ২০কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ  অভিযোগে পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায় ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিআরটিএর দায়িত্বে ছিলেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শাহ-আলম।

 

এর পূর্বে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে দায়িত্বে থেকে প্রায় ৯থেকে ১হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২২ সালে বরিশাল বিআরটিএতে যোগদান করেই মার্চে ৪টি (এপ্রিলে ২টি), (মে ৫টি),(জানুয়ারি মাসে ২১টি),(জুলাই মাসে ৪৫টি), (অক্টোবর মাসে১০টি) অর্থাৎ ২২সালের মার্চ হইতে অক্টোবর পর্যন্ত অবৈধ ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিষ্ট্রেশন করেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে শাহআলমের অর্পকর্মের বিরুদ্ধে উপ পরিচালক (প্রশাসন) ঢাকা তিনি গত ২৯/১১/২০২২সালে, ৩৫,০৩,০০০০,০০১,২৭,০২২৭ স্বারক নাম্বারে ৩ জনের একটি কমিটি করে ১৫ দিনের ভিতর তদন্ত প্রতিবেদক জমা দিতে আদেশে উল্লেখ করেন। তবে অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ করেননি শাহ-আলম।

 

এদিকে ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত ২৫৫টি গাড়ির তদন্ত চলাকালীন সময় তিনি পূনরায় আবার ২২সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর বরিশাল-ন-১১-০৭২০, বরিশাল-ন-১১-০৭৪৮,  নাম্বারসহ প্রায় ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন  প্রদান করেন।

 

যার প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশন মালিকের ঠিকানা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এবং রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়ির মালিক ওই বিভাগের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটার। যা বিআরটিএর আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অংকের বিনিময় এসব রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন বরিশাল বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক শাহআলম।

 

উল্লেখ্য অবৈধভাবে যান বাহন রেজিষ্ট্রেশন করার অপরাধে দুদকের করা মামলায় শাহ-আলম উচ্চ আদালত থেকে জামিন ছিলেন। তবে আজ সেই মামলা থেকে শাহ-আলম স্থায়ীভাবে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত তা নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করেন।