
এম. লোকমান হোসাইন ॥ অবৈধ সম্পদ আড়াল করতে স্ত্রীকে অস্বীকার করলেন রুপক। এমন সংবাদ প্রকাশের পর বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষক, ক্যাশিয়ার হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে সময়ের বার্তার হাতে।
ঠিকাদররা কাজ করেও চাহিদা অনুযায়ী সরকারি বাবুদের কমিশন না দেওয়ায় কাজের বিল পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। আবার কাউকে স্বৈরাচ্চারের দোষর তকমা লাগিয়ে কাজের বিল আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আকড়া হিসাবে পরিচিত বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ এর দুর্নীতির ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ ২য় পর্ব।
মেসার্স গাজী বিল্ডার্স এর প্রোপাইটার মো: আল মামুন ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর আওতায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের উন্নয়নমূলক সংস্কার বাবদ ১১১৪৩৫১ আইডির অনুকূলে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭শত ৯১ টাকার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরে বিল না দিয়ে অর্থআত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজ সমাপ্তি করে বিল না পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আলম, হিসাব রক্ষক মো: আলমগীর হোসেন, ক্যাশিয়ার মো: মঞ্জুর কাদির ও হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দেন ভূক্তভোগী ঠিকাদার মামুন।
১১ নভেম্বর দেওয়া, লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স গাজী বিল্ডার্স, প্রোপাইটর মো: আল মামুন বরিশাল গণপূর্ত অফিস এর মাধ্যমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এবং কিডনী ডায়ালাসিস ওয়ার্ডের সংস্কার কাজ, এ ব্লকের এসি কেবিন নং ৩৪.৩৫ বিশেষ সংস্কার সহ আনুসাঙ্গিক কাজ এর টেন্ডার ইজিপির মাধ্যমে প্রাপ্ত হন। যার ইজিপি টেন্ডার আইডি নং-১১১৪৩৫১, প্রাক্কলিত মূল্য ১৯ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা এবং দরপত্র মূল্য ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯১ টাকা চুক্তিপত্র নং ৭০। কাজটি লটারির মাধ্যমে পাওয়ার পর কাজটি সঠিক সময়ে সন্তোসজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বিলের টাকা নির্ধারিত হিসাব নম্বরে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো টাকা জমা দেননি। এসবকিছুর মাষ্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক। রুপকের ভাই বরিশাল বিএনপির সাথে জড়িত থাকায় ভাইয়ের ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব করছেন বলেন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিবার্হী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম যেহেতু স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বিতর্কিত নেতা আমির হোসেন আমুর কথিত ছেলে এবং স্বেরাচার সরকারের বিশ্বস্ত সরকারী কর্মকর্তা তাই নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম রুপকের উপর ভর করে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করছেন। একই মাসের ১৮ তারিখের স্বাক্ষরিত জবাবে বলেন, নোটিশের জবাব গ্রহীতা
ঠিকাদার হিসাবে বর্ণিত কাজের বিলখানা বিগত ৩০ জুন-২০২৫ তারিখে প্রস্তুত করিলেও প্রত্যাশি সংস্থা তথা শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়ন পত্র বিগত ২ সেপ্টম্বর-২০২৫ তারিখ জমা প্রদান করেছিলেন। যা ভিন্ন ভিন্ন অর্থবছরে প্রস্তুত ও প্রাপ্ত হয়েছেন। বর্ণিত কাজের বরাদ্দ বিগত ২৩ জুন-২০২৫ তারিখে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পরিশোধ করার শেষ তারিখ থাকিলেও উক্ত তারিখের কিংবা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বর্ণিত ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়ন পত্র জমা না দেওয়ায়, বরাদ্দকালীন সময় অর্থাৎ অর্থবছরে অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিলখানা (গণপূর্ত) দপ্তরে জমা হইবার কারণে বিলখানা পরিশোধ করা সম্বব হয় নাই বলে দাবী করা হচ্ছে।
নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে বরাদ্দ সাপেক্ষে বরাদ্দ আসা মাত্রই বর্ণিত কাজের বিলখানা ঠিকাদার বরাবর পরিশোধ করার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে নোটিশে দাবী করা হচ্ছে। তবে একাধিক ঠিকাদাররা বলেন, এক অর্থবছরের টাকা অন্য অর্থবছরে জমা রাখার নিয়ম নাই। যদিও বরাদ্দকালীন সময় অর্থাৎ অর্থবছরে অতিক্রান্ত হওয়ার পর সদর দপ্তরের অনুমতি ছাড়া এক অর্থবছরের টাকা অন্য অর্থবছরে জমা রাখা বেআইনী।
মেসার্স গাজী বিল্ডার্স, প্রোপাইটর মো: আল মামুন সময়ের বার্তাকে বলেন, তিনি সঠিক সময়ে কাজ শেষ করেছেন রুপক এবং নির্বাহী প্রকৌশলী দুইজন মিলে তার কাজের টাকা আত্মসাত করার পায়তারা চালাচ্ছেন। তিনি এর সঠিক বিচারের দাবী করছেন। এবিষয় জানতে নির্বার্হী প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আলমকে ফোন করা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপকও ফোন কেটে দেওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদকের নাম 








