
অভিযাগ পেলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে- পরিচালক ( উপ-সচিব) প্রশাসন- পারভেজ চৌধুরী
আল আমীন গাজী ঃ
দায়িত্ব তিনি নমুনা সংগ্রহকারী। তবে তার উপরে আরো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে পরিচালক!
চাকুরী জীবনে নিজের পদ ছোট হলেও তার কথায় চলে বরিশাল বিভাগের অবৈধ ইটভাটা, অবৈধ কাগজপত্র বিহীন কলকারখানা, সাথে পরিবেশ হুমকির অবৈধ পলিথিন কারখানা। আর এসব ইটভাটা অবৈধ কারখানা থেকে প্রতি মাসে আদায় করছে কোটি কোটি টাকা। কারন তাহার ৫ আঙ্গুলে এখন ঘি। বলা হচ্ছে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসের নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলামের কথা।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তর দূর্নীতি নিয় প্রকাশের পরে এবার নতুন করে একের পর এক লিখিত অভিযোগ আসছে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানাযায়, গত ৪ জানুয়ারী পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কয়েকজন ভুক্তভোগী।
নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকের একান্ত কাছে লোক। দিদারুল ইসলাম বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা। একই স্থানে তিন বছর চাকুরী করার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে দিদারুল ইসলাম।
অভিযোগে জানা যায়, দূর্নীতির আতুরঘর হিসাবে এখন পরিচিতি লাভ করেছে বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তিনি একাই পুরো বরিশাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তার দায়িত্ব পরিবেশগত বিভিন্ন উৎস, যেমন—পানি, বায়ু, মাটি, শব্দ ইত্যাদি থেকে মানসম্মত নমুনা সংগ্রহ করা, সেগুলোকে গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা এবং ফিল্ডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহায়তা করা, যা পরিবেশ দূষণ রোধ ও বিধিমালা প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু তিনি তার দায়িত্ব পালন না করে নিজেকে অঘোষিত পরিচালক হিসাবে জহির করার চেষ্টা করছে।
তবে দিদারুল ইসলাম বরিশালে বাসিন্দা হওয়ায় ইটভাটা থেকে শুরু করে পুকুর ভরাটও বাদ যায় না তার কাছ থেকে। তাকে টাকা দিলে পুরো অফিস ম্যানেজ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে এবিষয় পরিবেশ সদর অধিদপ্তর ঢাকা পরিচালক ( উপসচিব) প্রশাসন মোঃ পারভেজ চৌধুরী বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায় তা হলে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর ঘুষ শব্দটি হচ্ছে সমাজের একটি নিকৃষ্ট শব্দ এবং যারাই এর সাথে জড়িত থাকবে তারা কোন দিনই ছাড় পাবে না। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (ছদ্মনাম) মনু মিয়া সময়ের বার্তাকে বলেন, ভাই আমাদের ইটভাটা চালাতে এখন অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা একপ্রকারে দিদারুলের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। পরিচালককে দিদারুল ইসলাম যা বলে তিনি তাই শোনে। এছাড়াও উক্ত অবৈধ অর্থ বানিজ্য বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম স্যারের মাধ্যমে লেনদেন করি। দিদারুল স্যার বাবুগঞ্জে অবৈধ ড্রাম চিমনী যার মধ্যে নিসা ব্রিকস, খান ব্রিকস, হাওলাদার ব্রিকস, মা ব্রিকস, ময়দানের হাট লাইভ ব্রিকস, – বাবুগঞ্জ কেয়ার ব্রিকসসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছে। ঘুষ দিয়ে নিশ্চয়েই অবৈধ ইটভাটা চালিয়ে আসছে ওই সব মালিকরা। যেখানে নেই কেন অভিযান।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, দিদারুল ইসলাম স্যার নিজেই একটি ইটভাটায় গোপনে মালিক হিসাবে পরিচালনা করে আসছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্যে পুরান শিকারপুর রমজানকাঠি নাম স্থানে নদীর পাড়ে মদিনা ব্রিকস প্রায় ৬ বছর যাবৎ দুইটি ড্রাম চিমনী দিয়ে পরিচালনা করে আসছে। যার মালিক দিদারুল ইসলাম নিজেই। মদিনা ইটভাটার মালিক তাকে গত ১৭দিন আগে ৪লক্ষ টাকা দিয়েছে ব্যবসার একাংশ।
তবে তারই এমন ভিডিও ও অডিও অভিযোগে অনুসন্ধানে দেখাযায়, নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলামের বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলায় হওয়ায় মদিনা ব্রিকসের মালিকের স্বজনও রয়েছে ওই এলাকায়। সেই সুবাদে দিদারুলের সাথে সম্পর্ক রয়েছে মদিনা অবৈধ ইটভাটার মালিকের সাথে। যেখানে দিদারুল ইসলাম ওই ইটভাটায় কোন অভিযান পরিচালনা করতে দেয় নি। মদিনা ব্রিকস নামক প্রতিষ্ঠান যা পুরোটাই নিম্নমানে অবৈধ ড্রাম চিমনী দ্বারা পরিচালিত। সেই অবৈধ ইটভাটার সাথে বিভাগীয় অফিসের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে বলে জানা যায়।
এবিষয় বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলাম সময়ের বার্তাকে বলেন, আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন। ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু না জানি সব অভিযোগ মিথ্যা। তবে মদিনা ইটভাটার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বিভাগীয় পরিচালকের সাথে কথা বলতে বলেন।
এবিষয় বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয় জানি না। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দিদারুল ইসলাম কেনো তার উপর দোষ দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আবারো ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলে।
প্রতিবেদকের নাম 









