
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হিরণ নগর কলোনিতে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি গণস্বাক্ষর পত্রিকা অফিসের অভিযোগ বক্সে জমা পড়ে, জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আরমান শেখ, তার স্ত্রী মোসা. লাকি বেগম, মো. কবির মুন্সি ওরফে কুত্তা কবির ও তার ছেলে মো. মিঠু মুন্সি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং চরকাউয়া এলাকায় একটি বড় মাদকচক্র নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) বন্দর থানাধীন এলাকায় বসবাস করেন। তবে এত অভিযোগের পরও মাদকবিরোধী অভিযান বা দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা তেমন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় যুব সমাজের একাধীক ব্যক্তি জানান, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে মো. কবির মুন্সির বিরুদ্ধে মাদক নিয়ে প্রতিবাদকারীদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলা বা মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলেই নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়।
কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব ঘটনায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। ফলে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে উঠছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হিরণ নগর কলোনিতে বিভিন্ন ধরনের মাদকের কেনাবেচা ও সরবরাহের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও মাদক কেনাবেচা ও সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। এতে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, শুধু মাদক উদ্ধার করলেই হবে না—এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে এলাকায় আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে মাদক সরবরাহ, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে যদি একটি এলাকায় মাদক ব্যবসার এমন অভিযোগ থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান কেন দৃশ্যমান নয়? তাদের দাবি, বন্দর থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিবাদকারীদের মারধর, ভয়ভীতি এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এবিষয় বিএমপি বন্দর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, চরকাউয়া হিরণ নগর একটি ঘনবসতি এলাকা। আমাদের টিম ওখানে কাজ করছে। খুব তারাতারি মাদক ব্যবসায়ী কবির ও আরমানসহ পুরো সিন্ডিকেট গ্রেফতার করা হবে। তিনি আরো বলেন, ২মাস পূর্বে কবিরের স্ত্রীকে আমরা মাদকসহ গ্রেফতার করেছি।
এদিকে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী কবির মুন্সি সব অভিযোগ স্বিকার করে বলেন, আমি ব্যবসা করি না। আমার ছেলে করে। ও গুটি বিক্রি করে। আর আমি আওয়ামী লীগ করি তাই সবাই মিলে আমার ক্ষতি করতে চায়।
স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা বের করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 









