
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের ১৪ প্রকৌশলীর চরম স্বেচ্ছাচারিতা!
বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ
সপ্তাহের চরম ব্যস্ত কর্মদিবসে সরকারি দায়িত্ব শিকেয় তুলে ঠিকাদারের টাকায় আয়েশি ‘প্রমোদভ্রমণে’ মেতে উঠেছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৪ জন প্রকৌশলী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন তো দূরের কথা, ছুটির ন্যূনতম আবেদনটুকু না করে একযোগে কর্মস্থল ত্যাগ করার মতো নজিরবিহীন ও বেপরোয়া ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা। আর এই চরম অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই অপরাধ স্বীকারের বদলে উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেছেন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম।
ছুটি ছাড়াই লাপাত্তা শীর্ষ কর্মকর্তারা
দপ্তরের হাজিরা খাতা ও সরেজমিন অনুসন্ধানে ধরা পড়ে তাদের চরম দায়িত্বহীনতার চিত্র।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কোনো প্রকার ছুটি না নিয়েই দপ্তর ছেড়ে সটকে পড়েন চার শীর্ষ প্রকৌশলী—নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী আবির হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান ও সাদিয়া সুলতানা জেবা। অথচ এর আগে থেকেই (৭ সেপ্টেম্বর থেকে) সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আফজাল হোসেন এবং (৮ সেপ্টেম্বর থেকে) সহকারী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। গত রবিবার দপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ছয় শীর্ষ কর্মকর্তার কক্ষেই ঝুলছে তালা, আর সেবা নিতে আসা মানুষ ভুগছেন চরম ভোগান্তিতে।
বিমানে চড়ে রিসোর্টে চার দিনের বিলাসিতা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে দপ্তরের ৫ প্রকৌশলী এবং উজিরপুর উপজেলা ছাড়া জেলার বাকি ৯ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলীরা গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সেখান থেকে বিমানে চড়ে নামেন সিলেটে এবং সোজা চলে যান হবিগঞ্জের বাহুবলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে’। সরকারি কাজ ফেলে টানা চার দিন ধরে সেখানে চলে তাদের আনন্দ-উৎসব ও বিলাসিতা।
ঠিকাদারের অর্থায়ন ও অপরাধ ঢাকতে হুমকি
দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের পূর্ণ অর্থায়নে এই রাজকীয় ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। আরও দুদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলেও সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে নেমেছেন জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে রবিবার রাতে তারা বরিশালে ফেরেন। তবে ফেরার পরেই শুরু হয় আসল নাটকীয়তা। দাপ্তরিক গাফিলতি ফাঁস হওয়ায় অধস্তন কর্মচারীদের শাসিয়ে বদলির হুমকি দিতে থাকেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো ধমকের সুর তুলে বলেন, “হাই-অথরিটির পারমিশন নিয়ে এলে কথা বলব।” এমনকি সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিতেও দ্বিধা করেননি এই কর্মকর্তা।
জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে ঠিকাদারের টাকায় ফুর্তি করা এবং সরকারি কাজ অচল করে রাখার এই নগ্ন স্বেচ্ছাচারিতার পেছনে আর কার কার মদদ রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি উঠছে।
প্রতিবেদকের নাম 








