
বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ ১০ম গ্রেডের দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন সরকারি কর্মকর্তার মূল বেতন মাসে ১৬ থেকে ২২ হাজার টাকা। অথচ এই সামান্য বেতনের চাকরি করে বরিশাল নগরীর অতি ব্যয়বহুল এলাকায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জমি ও বহুতল ভবন গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ সোহেল হোসেনের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
নগরজুড়ে কোটি কোটি টাকার জমি ও বহুতল ভবন
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালে বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড চৌমাথা এলাকায় মহাসড়কের পাশে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় কিনে নেন পিআইও সোহেল। সেখানে ৫টি স্টল নির্মাণ করে প্রতিটি থেকে অগ্রিম বাবদ ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত নেন। বর্তমানে এসব দোকান থেকে প্রতি মাসে তার আয় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।
এছাড়া নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম গোরস্থান রোডে ৬ শতাংশ জমির ওপর প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে লিফটসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি সাততলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ থাকলেও স্থানীয়রা তৎকালীন প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেননি। নাম ও বেনামে তার আরও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ সুবিধা
সূত্র জানায়, ছাত্রজীবনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন সোহেল হোসেন। আগে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক সিনিয়র সচিবের মাধ্যমে পিআইও হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। নগরীর চৌমাথা ও গোরস্থান রোডের মূল্যবান জমি কেনা থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদন—সবকিছুর নেপথ্যে মধ্যস্থতা করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর শেখ সাইদ আহমেদ মান্না। মান্নাকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই সোহেল সরকারি জমি দখল করে ভবন তোলেন।
প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের ধারাবাহিকতা
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে টিআর, কাবিখা, কাবিটা এবং জলবায়ু তহবিলের ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন এই কর্মকর্তা। সরকার পতনের আগে তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে বদলি হয়ে আসেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও তার অনিয়ম ও দুর্নীতির চাকা থামেনি বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 








