বরিশালে পরোয়ানা সত্ত্বেও অধরা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ  পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি। 

আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা থাকা সত্ত্বেও অধরাই রয়ে গেছে বরিশালের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুল বাহিনী। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয়দের দাবি—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ মদদ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গডফাদারদের ছত্রছায়ায় আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নগরীতে প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

​হকার থেকে কোটিপতি: রিফুজি কলোনিতে মাদকের সম্রাজ্য
​অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ একসময় পত্রিকার হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও অল্প সময়েই বিপুল সম্পদ ও কোটি টাকার মালিক বনে যান। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ ও শ্রমজীবী অধ্যুষিত রিফুজি কলোনি এবং কাজীপাড়া এলাকায় মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিনেছেন জমি, প্লট, ফ্ল্যাট এবং নির্মাণ করেছেন আলিশান ভবন। তার এই মাদক কারবারের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেন স্ত্রী আনু বেগম, যার বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন।

​আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণ ও ‘নাক কাটা’ রুবেলের উত্থান
​দক্ষিণাঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনায় রফিকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে র‍্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা’ রুবেল ও মাইনুলদের নাম। ২০০২ সালে তৎকালীন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদল নেতা মাহবুবুল আলম মেহেদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই রুবেলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো বহু গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০০৬ সালে র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মেহেদী নিহত হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ এক যুগ আত্মগোপনে ছিল রুবেল। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে এলাকায় ফিরে সে পুনরায় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে মহড়া দিতে শুরু করে।

 

​কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও পেশাগত ঝুঁকি
​গত ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল ও রফিক বাহিনী মোটরসাইকেলযোগে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফুজি কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করতে করতে নূরীয়া স্কুলের দিকে চলে যায়। কলোনিতে নতুন সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় তরুণরা বাধা দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
​এই গোলাগুলির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রুবেলের অপরাধের ইতিহাস নিয়ে আরও তিনটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল-রফিক বাহিনী।

​প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
​গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম ও ‘বিজলী বার্তা’র সংবাদকর্মী জানে আলম লিখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় রফিকের বাইক থেকে নেমে ‘নাক কাটা’ রুবেল সাংবাদিক আসলামের দিকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশিত সংবাদ দ্রুত মুছে ফেলার হুমকি দেয়। অন্যথায় তাঁকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

​রিফুজি কলোনির এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “রফিক আমাদের এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের মাধ্যমে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তাকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

​আইনি লড়াই, চার্জশিট ও ক্রমাগত হুমকি
​হুমকির ঘটনায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বরিশাল ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলার আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক ভিডিও ফুটেজ ও আসামিদের অপরাধের নথি পর্যালোচনা করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

​মামলা দায়েরের পর সাংবাদিক আসলামের সন্তানদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হলেও, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রাজিব দাস সনেট ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এদিকে চার্জশিটে নাম আসায় রফিকের স্ত্রী আনু বেগম সাংবাদিক আসলামকে মুঠোফোনে কল দিয়ে মিথ্যা মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের তথ্য আগাম পেয়ে যাওয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

​পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস
​এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুলদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্প্রতি অবগত হয়েছেন।

​কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, “চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না; যেকোনো মূল্যে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

সংবাদ প্রকাশের পর – অবৈধ রেণুপোনা পাচারের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারিতে ‘বিপ্লব’

বরিশালে পরোয়ানা সত্ত্বেও অধরা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

আপডেট সময় : ০১:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ  পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি। 

আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা থাকা সত্ত্বেও অধরাই রয়ে গেছে বরিশালের চিহ্নিত সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুল বাহিনী। অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার তীব্র অভিযোগ উঠেছে এই সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

 

স্থানীয়দের দাবি—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ মদদ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গডফাদারদের ছত্রছায়ায় আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নগরীতে প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

​হকার থেকে কোটিপতি: রিফুজি কলোনিতে মাদকের সম্রাজ্য
​অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ একসময় পত্রিকার হকারি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও অল্প সময়েই বিপুল সম্পদ ও কোটি টাকার মালিক বনে যান। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ ও শ্রমজীবী অধ্যুষিত রিফুজি কলোনি এবং কাজীপাড়া এলাকায় মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিনেছেন জমি, প্লট, ফ্ল্যাট এবং নির্মাণ করেছেন আলিশান ভবন। তার এই মাদক কারবারের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেন স্ত্রী আনু বেগম, যার বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক মামলা বিচারাধীন।

​আন্ডারওয়ার্ল্ডের সমীকরণ ও ‘নাক কাটা’ রুবেলের উত্থান
​দক্ষিণাঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিশাল সিন্ডিকেট পরিচালনায় রফিকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে র‍্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাক কাটা’ রুবেল ও মাইনুলদের নাম। ২০০২ সালে তৎকালীন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদল নেতা মাহবুবুল আলম মেহেদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই রুবেলের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো বহু গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০০৬ সালে র‍্যাবের ক্রসফায়ারে মেহেদী নিহত হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ এক যুগ আত্মগোপনে ছিল রুবেল। তবে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে এলাকায় ফিরে সে পুনরায় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে মহড়া দিতে শুরু করে।

 

​কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও পেশাগত ঝুঁকি
​গত ১৭ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল ও রফিক বাহিনী মোটরসাইকেলযোগে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের রিফুজি কলোনিতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করতে করতে নূরীয়া স্কুলের দিকে চলে যায়। কলোনিতে নতুন সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় তরুণরা বাধা দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
​এই গোলাগুলির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাশ বিডি’-র সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রুবেলের অপরাধের ইতিহাস নিয়ে আরও তিনটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল-রফিক বাহিনী।

​প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
​গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম ও ‘বিজলী বার্তা’র সংবাদকর্মী জানে আলম লিখন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় রফিকের বাইক থেকে নেমে ‘নাক কাটা’ রুবেল সাংবাদিক আসলামের দিকে সরাসরি আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রকাশিত সংবাদ দ্রুত মুছে ফেলার হুমকি দেয়। অন্যথায় তাঁকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

​রিফুজি কলোনির এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “রফিক আমাদের এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকের মাধ্যমে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তাকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।”

​আইনি লড়াই, চার্জশিট ও ক্রমাগত হুমকি
​হুমকির ঘটনায় সাংবাদিক মাছুদুর রহমান আসলাম বরিশাল ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলার আবেদন করেন। বিজ্ঞ বিচারক ভিডিও ফুটেজ ও আসামিদের অপরাধের নথি পর্যালোচনা করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

​মামলা দায়েরের পর সাংবাদিক আসলামের সন্তানদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হলেও, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই রাজিব দাস সনেট ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এদিকে চার্জশিটে নাম আসায় রফিকের স্ত্রী আনু বেগম সাংবাদিক আসলামকে মুঠোফোনে কল দিয়ে মিথ্যা মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানের তথ্য আগাম পেয়ে যাওয়ায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা বারবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

​পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস
​এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল, ‘গাঁজা’ রফিক ও মাইনুলদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তারা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সম্প্রতি অবগত হয়েছেন।

​কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএমপি কমিশনার বলেন, “চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না; যেকোনো মূল্যে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”