
নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে একপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান মিন্টু ডাকযোগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ, ভূমি সচিব, বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে পৃথক অভিযোগপত্র পাঠান। অভিযোগে সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ২৩ জুলাই স্মারক নং-৩২.১০.০৬৫১.০০০.০৪.০০৬.২৪-১৫০৭ অনুযায়ী এমপি কেস নং-৭০/২০১৮ (বিমানবন্দর) সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিন আহম্মেদ। তবে অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিবেদনটি প্রকৃত ঘটনা, বিদ্যমান নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সরেজমিন তদন্ত ছাড়াই এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-৩২৯/২০২০-এর একটি ডিক্রির বিষয় উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে ওই রায় ও ডিক্রি বাতিল হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জমিতে বিবাদীপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বসতঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে রয়েছে—এমন তথ্যও প্রতিবেদনে স্থান পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন একটি রাজনৈতিক বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে, যা তদন্তের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, এমন বক্তব্য ভবিষ্যতে বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং বড় কোন দূর্ঘটনা সম্মুখীন সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, সার্ভেয়ার জালা উদ্দিন সদর ভূমি অফিসকে নিজের বাড়ি বানিয়ে রেখেছেন। মন যা চাই তাই করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরিশাল সদরের সুনাম নষ্ট করতে অজান্তে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিন আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেন বিভিন্ন ভূক্তভোগী কাছ থেকে মোটা অংকের টাকায় দাবি করে আসছে। ঘুষ বানিজ্য তার এখন তার পেশায় পরিনতিতে হয়েছে। সে ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও অবৈধ লেনদেনে জড়িত তার কাছে নিত্যদিনে দুধভাত।
আর এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত দাবিদাররা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও একাধিক অভিযোগে পাওয়া গেছে।
অপরদিকে ভূক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান মিন্টু অভিযোগ করে জানান, তদন্ত কার্যক্রমের আগে তার কাছে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিহিংসাবশত তার দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষের পক্ষে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তার ভাষ্য, তদন্ত ব্যয়ের নামেও অর্থ দাবি করা হয়েছিল এবং সেই দাবি পূরণ না করায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাস্তবতাবিবর্জিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর ডকুমেন্টস রয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায় প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ঘুষখোর জালালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার জালাল উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছি, সে বিষয়ে এসিল্যান্ড স্যার অবগত আছেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।”
প্রতিবেদকের নাম 

















