
বার্তা টাইমস বিডি ঃ বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ ইটভাটা চলমান রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চরকাউয়া ইউনিয়নের কালিখলা এলাকায় অবৈধ ইটভাটার পাজা তৈরি করে প্রায় ৫ লক্ষ ইট তৈরি করেছে। যেখানে পরিবেশ ও জনজীবনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে লুনা ব্রিকস নামক ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে চরকাউয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি। সরকারের কোনো আইনকে তোয়াক্কা করছে না এই আওয়ামী লীগ নেতা।
সূত্র জানায়, গত বছরের (৪ ডিসেম্বর) অবৈধ লুনা ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে ইটের ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ জহির রাজু ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় প্রধান মোজাম্মেল হক আকন।
এ সময় লুনা ব্রিকসের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার রকি পালকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়ার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নতুন করে আবার নিয়মনীতি ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ইট প্রস্তুত করছে লুনা ব্রিকস।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত যেকোনো ইটের পাজ বা ভাটা অবৈধ ফসলি জমি, বনাঞ্চল, বা আবাসিক এলাকার আশেপাশে পরিবেশের ক্ষতি করে গড়ে ওঠা ইটভাটা, বিশেষ করে যেগুলোতে কাঠ পোড়ানো হয়, তা আইনের চোখে অবৈধ এবং এর জন্য জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সরেজমিনে ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, যদিও পাজা পদ্ধতিতে লুনা ব্রিকস কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনত নিষিদ্ধ, তবুও লুনা ব্রিকস কতৃপক্ষ আইনকে তোয়াক্কা না করে বনের কাঠ ব্যবহার করেন। সেখানে আইন অমান্য করে গড়ে উঠেছে আবারো ইটভাটা কৃষিজমির মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। বসতবাড়ির ও স্কুল আশপাশেও ইট পুড়ছে ইটভাটার পাজা। ইট বানাতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো হয় ওই ভাটায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়াও এতে স্থানীয়রা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। পাশাপাশি কাঠ পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে।বিশেষ করে লুনা ব্রিকসের পাশে বসতবাড়ি ও স্কুলের কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও কাঠ পোড়ানো বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে জানা স্থানীয়রা।
এবিষয় লুনা ব্রিকসের ম্যানেজার রকি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নামে এক সাংবাদিককের সাথে কর্মকর্তা এসে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। আর অন্য সাংবাদিকরা আসছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানি দিয়ে থাকি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কে টাকা নিয়েছে জানতে চাইছে তিনি তথ্য গোপন রাখতে গড়িমসি করেন। যার ভিডিও ও অডিও তথ্য প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
এবিষয় বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বার্তা টাইমস বিডিকে বলেন, আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইটের পাজা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেটা পুরোটাই অবৈধ।আমরা এবিষয় অভিযান পরিচালনা করবো। আমাদের জনবল কম,তাই কিছু অবৈধ ভাটা মালিক সুযোগ খুঁজে অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নাই।
প্রতিবেদকের নাম 











