
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের অভিযানে বেলাল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ট্রলার রিপন ওরফে রিপন রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম
সূত্র জানায় গত বছরে ৩ ডিসেম্বর সকালে নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন একটি মার্কেটের তৃতীয় তলায় রিপন রানা ওরফে ট্রলার রিপনের একটি অনলাইন পত্রিকা অফিসে বেলালকে হত্যা করা হয়। পরে বেলালের বাবা বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম চর আইচা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলায় ৩ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করলেও মামলার মূল অভিযুক্ত রিপন পলাতক ছিলো।
সেই সূত্রধরে গোপন সংবাদের ভিক্তিতে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় বরিশাল নগরীর কোতয়ালী থানাধীন নাজিরা পোল সংলগ্ন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রিপন প্রতিদিনই প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতো এবং রাতে মাদক সেবন করতো। আটকের সময় রিপন ওরফে ট্রলার রিপন মদ্যপান অবস্থায় ছিলো।
উল্লেখ্য, নিহত বেল্লাল ছিলেন পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও পোড়ার দাগ থাকায় শুরু থেকেই এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে ধারণা করা হচ্ছিল পুলিশের।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, যে কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, অনলাইন পোর্টাল ‘আলোকিত সংবাদ ২৪ ডটকম’-এর সম্পাদক-প্রকাশক পরিচয় দেওয়া রিপন রানা ওরফে ট্রলার রিপনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, রিপন রানা সাংবাদিকতার আড়ালে ওই মার্কেটের একাধিক কক্ষ ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ, ব্ল্যাকমেইলিং এবং কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ পরিচালনা করে আসছিলেন।
মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে ওই কক্ষে একাধিক নারী-পুরুষের আনাগোনা ছিল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই রাতে ইয়াবা সেবন ও পার্টির পর বেল্লালের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। বেল্লালের শরীরে পাওয়া আঘাত ও পোড়ার চিহ্ন এই অভিযোগকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। যদিও পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি, তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হত্যার ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও হত্যার সাথে জড়িত ২ নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে। তবে রিপন আছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
এবিষয় কোতোয়ালি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম নাছিম বলেন,রিপনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। মামলা জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে শহরে ঘোরাফেরা করতো। রিপন ওরফে ট্রলার রিপনকে রাত সাড়ে ১১টার সময় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে কোতোয়ালি থানাধীন নাজিরা পোল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ও তিনি আরো বলেন, মামলার রিপোর্ট হাতে এসেছে। বেলালকে হত্যা করা হয়েছে বলে তেমনই আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। খুব তারাতারি চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে জমা দেয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 








