
বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ লঞ্চের সামান্য লস্কর থেকে আজ শতকোটি টাকার মালিক। রাজনৈতিক ভোল বদলে সিদ্ধহস্ত এই ব্যক্তির নাম আলাউদ্দিন আলো। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দাপুটে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন, আর এখন পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে বিএনপি আমলেও তেল ও হার্ডঘাট বাজারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিজের কব্জায় নিয়েছেন। পদ্মা অয়েল ডিপোর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও একক আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
যেভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছিল
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলাউদ্দিন আলোর আদি বাড়ি সন্দ্বীপ-হাতিয়া অঞ্চলে। একসময় লঞ্চে লস্করের কাজ করতেন তিনি। ভাগ্যের অন্বেষণে বরিশালে এসে বিয়ে করেন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘গোলাম মাওলা এন্ড সন্স’-এর কর্ণধারের মেয়েকে। শ্বশুরের মৃত্যুর পর সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন আলো। লস্কর জীবন ছেড়ে বনে যান তেলের ব্যবসায়ী। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
সাদিক আব্দুল্লাহ থেকে খোকন সেরনিয়াবাত: সব আমলেই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ থেকে ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আলো প্রথমে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বলয়ে যোগ দেন। তবে সেখানে সুবিধা করতে না পেরে পরবর্তীতে সাদিক আব্দুল্লাহর আপন চাচা এবং বর্তমান বিদায়ী মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগান দিয়ে রাতারাতি তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজনে পরিণত হন তিনি।
মেয়র হিসেবে খোকন সেরনিয়াবাত দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি কর্পোরেশনের গাড়ির তেলের বড় কন্টাক্ট বাগিয়ে নেন আলো। এমনকি সাদিক আব্দুল্লাহর আমলের বকেয়া তেলের বিলও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তুলে নেন। তার ক্ষমতার দাপটে বরিশালের তেলের বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তার পকেটে।
পটপরিবর্তনের পর ‘বিএনপি সাজা’ ও গোপন মিশন
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন আলাউদ্দিন আলো। একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারেও যেতে হয় তাকে। তবে জামিনে বেরিয়েই পুনরায় ‘বোল পাল্টাতে’ দেরি করেননি তিনি। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিএনপি পন্থী সেজে পদ্মা ডিপোর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পুনরায় সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, একদিকে তিনি সিন্ডিকেট করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, অন্যদিকে গোপনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অর্থ জোগান দিচ্ছেন। এই অর্থের মাধ্যমেই গোপনে ঝটিকা মিছিল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, টাকার জোরে নেতাদের মুখ বন্ধ করে নিজের সাম্রাজ্য ধরে রাখাই আলোর প্রধান কৌশল।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তেলের মতো জরুরি পণ্যের বাজার জিম্মি করে রাখা এই মাফিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বরিশালের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এবিষয়ে পদ্মা অয়েল ডিপো ইনচার্জ কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তালাশ বিডির প্রতিবেদনকে বলে ভাই আমি সামান্য ইন চার্জ এখানে যা কিছুই হচ্ছে আমার উপরাষ্ট্র কর্মকর্তাদের নির্দেশই হচ্ছে আপনাকে নাম্বার দিচ্ছি তাদের সাথে কথা বলুন।
প্রতিবেদকের নাম 












