ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত, জোড় করে স্ট্যাম্পে টিপসই নেয়ার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি মহাসড়কে আনসার বাহিনীর একটি গাড়ির ধাক্কায় ১১ বছর বয়সী এক মেধাবী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো বিচারিক অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

অভিযোগে বলা হয়, আনসার বাহিনীর একটি গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭”, বেপরোয়া গতিতে চলাচলকালে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামে এক চালক। মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই সঙ্গে শিশুটির মা (৩৫) গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল চালকও আহত হন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়বিচার পাননি তারা।

 

একটি ভিডিওতে দেখা যায়,  ভুক্তভোগী নারীর কাছে থেকে ২২ ব্যাটালিয়ান পটুয়াখালির কর্মকর্তা  ফরিদ তিনিসহ ৩জন আনসার সদস্য একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছে।  আহত ওই নারী টিপসই দিতে না চাইলেও আনসার সদস্যরা আহত নারীর হাত ধরে টিপসই নিচ্ছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা তাকে চাকুরী দেয়ার কথা বলেছি তবে তার বয়স নাই এখন। আর আমরা টিপসই জোড় করে নেই নাই। তিনিই ইচ্ছে করে দিয়েছেন।

 

এমনকি আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা দীর্ঘ তিন মাস সময় নষ্ট করেছেন, ভুক্তভোগী অবশেষে তিনি সাংবাদিকদের কে জানান তারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তিন মাস যাবত। ভুক্তভোগী আরো জানান কিছুদিন যাব তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাতে মামলা নিষ্পত্তি হয় সে ব্যাপারে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করেন ভুক্তভোগী।

 

উক্ত বিষয়ে সাংবাদিকরা সিরাজুল ইসলামকে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তা পারাপাড়ের সময় আমার গাড়ির উপরে এসে পড়ে যায়। এরপর দূর্ঘটনা ঘটে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখে যান।

 

 সেখানে আনসার বাহিনীর উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের কোন দায়ভার নেই বলেও তারা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর দাবি এটি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ড্রাইভারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী আরো জানিয়েছেন তিনি শোকাহত থাকা অবস্থায় জোর করে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন আনসার বাহিনী সদস্যরা, তারপর থেকে তার সাথে কোন ধরনের কোন সদাচারণ করেনি আনসার বাহিনী ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম। রীতিমতো হুমকিও ভয় দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করে নিতে চাচ্ছেন আনসার ড্রাইভার। বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করার জন্য যাতে ভুক্তভোগী সুষ্ঠু বিচার পান সে বিষয়ে ভুক্তভোগীর আবেদন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে।

 

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, সড়কে দায়িত্বশীল বাহিনীর যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

জনপ্রিয়

আলোচিত ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ আদালত!

বরিশালে আনসার বাহিনীর গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত, জোড় করে স্ট্যাম্পে টিপসই নেয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি মহাসড়কে আনসার বাহিনীর একটি গাড়ির ধাক্কায় ১১ বছর বয়সী এক মেধাবী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার মা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো বিচারিক অগ্রগতি তারা দেখতে পাননি।

 

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে রুপাতলী এলাকায় ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের বাংলাদেশ বেতার রেডিও সেন্টার ও র্যাব-৮ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

অভিযোগে বলা হয়, আনসার বাহিনীর একটি গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর “ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৬৩৭”, বেপরোয়া গতিতে চলাচলকালে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিরাজুল ইসলাম (৫৮) নামে এক চালক। মোটরসাইকেলে থাকা ১১ বছর বয়সী এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই সঙ্গে শিশুটির মা (৩৫) গুরুতর আহত হন। মোটরসাইকেল চালকও আহত হন বলে জানা গেছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কিংবা ন্যায়বিচার পাননি তারা।

 

একটি ভিডিওতে দেখা যায়,  ভুক্তভোগী নারীর কাছে থেকে ২২ ব্যাটালিয়ান পটুয়াখালির কর্মকর্তা  ফরিদ তিনিসহ ৩জন আনসার সদস্য একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিচ্ছে।  আহত ওই নারী টিপসই দিতে না চাইলেও আনসার সদস্যরা আহত নারীর হাত ধরে টিপসই নিচ্ছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা তাকে চাকুরী দেয়ার কথা বলেছি তবে তার বয়স নাই এখন। আর আমরা টিপসই জোড় করে নেই নাই। তিনিই ইচ্ছে করে দিয়েছেন।

 

এমনকি আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা দীর্ঘ তিন মাস সময় নষ্ট করেছেন, ভুক্তভোগী অবশেষে তিনি সাংবাদিকদের কে জানান তারা তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তিন মাস যাবত। ভুক্তভোগী আরো জানান কিছুদিন যাব তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাতে মামলা নিষ্পত্তি হয় সে ব্যাপারে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী জানান, এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি জিডি করেন ভুক্তভোগী।

 

উক্ত বিষয়ে সাংবাদিকরা সিরাজুল ইসলামকে ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তা পারাপাড়ের সময় আমার গাড়ির উপরে এসে পড়ে যায়। এরপর দূর্ঘটনা ঘটে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখে যান।

 

 সেখানে আনসার বাহিনীর উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের কোন দায়ভার নেই বলেও তারা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর দাবি এটি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ড্রাইভারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী আরো জানিয়েছেন তিনি শোকাহত থাকা অবস্থায় জোর করে তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন আনসার বাহিনী সদস্যরা, তারপর থেকে তার সাথে কোন ধরনের কোন সদাচারণ করেনি আনসার বাহিনী ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম। রীতিমতো হুমকিও ভয় দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল করে নিতে চাচ্ছেন আনসার ড্রাইভার। বিষয়টি বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা করার জন্য যাতে ভুক্তভোগী সুষ্ঠু বিচার পান সে বিষয়ে ভুক্তভোগীর আবেদন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে।

 

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, সড়কে দায়িত্বশীল বাহিনীর যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছে, “আমরা শুধু সুষ্ঠু বিচার চাই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে গেছে, একজন মা আজও কষ্টে আছেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাইনি।”