ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা জিলানী ও টাক খোকন এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে- রয়েছে প্রকাশ্যে

স্টাফ রিপোর্টার:: নগরীর ১০নং ওয়ার্ডে রাজনীতির ভোল্ট পাল্টাতে শুরু করেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। কেউ বিএনপি আবার কেউ ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করার পায়তারা শুরু করেছেন।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সদস্য হয়ে গত ১৫বছর লুটেপুটে খেয়ে এখন অন্য দলে যোগদান  করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ১০নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা জিলানী চৌধুরী ওরফে হিটলার জিলানী ও খোকন ওরফে টাক খোকন।

একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, জিলানী চৌধুরী বরিশাল বিসিসির সাবেক প্রায়ত মেয়র শওকত হিরনের হাত ধরে ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। তৎকালীন হিরন মেয়র থাকায় বরিশালের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন মূলক কাজ করেন এই জিলানী চৌধুরী। শুধু তাই নয় তিনি সিটি মার্কেট পাইকারি কাঁচাবাজারে একটি স্টল ও বাজার কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয় নি তাকে। নিজ জনবল না থাকলেও এই আওয়ামী লীগ নেতা অবৈধ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতেন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের।  পরে সাবেক মেয়র হিরনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর সাথে রাজপথে দোখাযায় জিলানী চৌধুরীকে। কিন্তু সেখানেও পতন হওয়ার পর বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করেন।

 

অভিযোগে আরো জানাযায়, জিলানী ওরফে হিটলার জিলানী ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ার নেশায় নিজেই বিভিন্ন নেতার বিরোধিতা করার পর তৎকালীন  আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি সাইফুল ইসলাম জিলানীর ছবি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ না বলে বিলবোর্ড করে চালিয়ে দেয়। পরে ১০নং ওয়ার্ডে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনীয় দায়িত্ব পায় জিলানী চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলোসহ সুযোগবাদী নেতারা।

 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, জিলানী ওই নির্বাচন থেকে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা ইনকাম করেছেন। যেখানে নেতাকর্মীদের মাথা কেটে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন।

টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের প্রতিটি স্থানে নাক গলাতেন অভিযুক্ত হিটলার জিলানী ও খোকন । সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের কাছের লোক হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস করতেন না। কারন জিলানীর হিটলারী বুদ্ধির কাছে নেতাকর্মীরা সবাই অসহায় থাকতেন।

 

এদিকে জিলানী চৌধুরী সময়ের বার্তাকে বলেন, আমি দুইটি নির্বাচনের ২য় সমন্বয়ক ছিলাম সাবেক মেয়র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাত ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিমের। আমার কোন পোস্ট দেই ওয়ার্ডে।

এদিকে সরেজমিনে জানাযায়, জিলানী এখন বিএনপিতে যোগদান করার পায়তারা করছেন। ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির নির্যাতিত ত্যাগী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, জিলানী বিএনপিতে যোগ দেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের অর্থের লোভ দেখাচ্ছে।  গত ১৫বছর বিএনপির নেতাদের নির্যাতন করেছেন জিলানী চৌধুরী। এখন আবার সে পিঠ বাঁচাতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসতে চায়। আমরা নির্যাতিত কর্মী এসব সুযোগবাদী বিষফোঁড়া নেতাদের দলে আসতে দেয়া হবে না। এরা এতোদিন টেন্ডারবাজী থেকে শুরু করে সব কর্মকান্ড করেছে ওয়ার্ডে।

 

অপরদিকে স্থানীয়রা বলেন, টাক খোকন  নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সরকার থেকে নানা সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। নিজেই খোকন সেরনিয়াবাতের ও এমপি জাহিদ ফারুকের নির্বাচনীয় সমন্বয়ক ছিলেন। ওয়ার্ডে পুরো দুইটি নির্বাচন জিলানী ও টাক খোকনের দায়িত্বে ছিলেন।

কিন্তু তারা দুইহাতে লক্ষ লক্ষ লুটপাট করেও বর্তমান শরীরে হাওয়া লাগিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।  নেই কোন মামলা।

 

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার সরকার পাতানো নির্বাচন বর্জন করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর ডায়াবেটিস হাসপাতালে সামনে লিফলেট বিতরন করে এসময় জিলানী চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫/২০ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে আহত করেন।

 

এসময় সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম মোল্লা মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। যে আঘাতে এখন তিনি একটি চোখে কম দেখে ও মাথায় যন্ত্রণাদায়ক ব্যাথা অনুভব করেন।

 

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা জিলানী ও খোকনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা সমালোচনা চলছে। সেখানে মহানগর বিএনপির মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম লিখেছেন,এরা আওয়ামী লীগের লোক অনেক ঝামেলা করছে ১৮ ইলেকশনে ১৪ ইলেকশনে এদের জ্বালায় রাস্তায় হাঁটতেও পারিনি আমাদের পুলিশ দিয়ে ধাওয়া করেছে এই জেলানী এই খোকন অথচ তাদের নামে মামলা হয় না। তারা এখনো ওপেন টেন্ডারবাজি করে আসছে।

 

এবিষয় ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির এক নেতা সময়ের বার্তাকে বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে কোন অচেনা, অন্য দল থেকে আসা বা সুযোগবাদী কেউকেই নেয়া হবে না। আমরা সেদিকে সজাগ আছি। জিলানী চৌধুরী যোগাদান করবে আমার এবিষয় জানা নাই। আর ইচ্ছে করলেই কেউ বিএনপিতে যোগদান করতে পারবেন না। আর আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে যদি কোন সুযোগবাদীর  সাক্ষাৎ থাকে সেবিষয়ও আমরা তদন্ত  করবো।

এবিষয় জিলানীর মুঠোফোনে কর দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ও টাক খোকনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয় নি।

তবে সাধারন এলাকাবাসীর দাবি সুযোগবাদী হিটলার জিলানী ও খোকন ওরফে টাক খোকন যেন বিএনপি দলকে বিপদে ফেলতে না পারে। সে দিকে নেতাদের খেলায় রাখতে হবে। সূত্র দৈনিক সময়ের বার্তা।

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

জনপ্রিয়

আলোচিত ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ আদালত!

বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা জিলানী ও টাক খোকন এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে- রয়েছে প্রকাশ্যে

আপডেট সময় : ০৩:৩০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:: নগরীর ১০নং ওয়ার্ডে রাজনীতির ভোল্ট পাল্টাতে শুরু করেছে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। কেউ বিএনপি আবার কেউ ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করার পায়তারা শুরু করেছেন।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সদস্য হয়ে গত ১৫বছর লুটেপুটে খেয়ে এখন অন্য দলে যোগদান  করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ১০নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা জিলানী চৌধুরী ওরফে হিটলার জিলানী ও খোকন ওরফে টাক খোকন।

একটি লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, জিলানী চৌধুরী বরিশাল বিসিসির সাবেক প্রায়ত মেয়র শওকত হিরনের হাত ধরে ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। তৎকালীন হিরন মেয়র থাকায় বরিশালের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন মূলক কাজ করেন এই জিলানী চৌধুরী। শুধু তাই নয় তিনি সিটি মার্কেট পাইকারি কাঁচাবাজারে একটি স্টল ও বাজার কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয় নি তাকে। নিজ জনবল না থাকলেও এই আওয়ামী লীগ নেতা অবৈধ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতেন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের।  পরে সাবেক মেয়র হিরনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীর সাথে রাজপথে দোখাযায় জিলানী চৌধুরীকে। কিন্তু সেখানেও পতন হওয়ার পর বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিজেকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করেন।

 

অভিযোগে আরো জানাযায়, জিলানী ওরফে হিটলার জিলানী ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ার নেশায় নিজেই বিভিন্ন নেতার বিরোধিতা করার পর তৎকালীন  আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি সাইফুল ইসলাম জিলানীর ছবি দিয়ে আওয়ামী লীগের কেউ না বলে বিলবোর্ড করে চালিয়ে দেয়। পরে ১০নং ওয়ার্ডে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনীয় দায়িত্ব পায় জিলানী চৌধুরী, আলাউদ্দিন আলোসহ সুযোগবাদী নেতারা।

 

অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, জিলানী ওই নির্বাচন থেকে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা ইনকাম করেছেন। যেখানে নেতাকর্মীদের মাথা কেটে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন।

টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে ওয়ার্ডের প্রতিটি স্থানে নাক গলাতেন অভিযুক্ত হিটলার জিলানী ও খোকন । সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের কাছের লোক হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস করতেন না। কারন জিলানীর হিটলারী বুদ্ধির কাছে নেতাকর্মীরা সবাই অসহায় থাকতেন।

 

এদিকে জিলানী চৌধুরী সময়ের বার্তাকে বলেন, আমি দুইটি নির্বাচনের ২য় সমন্বয়ক ছিলাম সাবেক মেয়র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাত ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিমের। আমার কোন পোস্ট দেই ওয়ার্ডে।

এদিকে সরেজমিনে জানাযায়, জিলানী এখন বিএনপিতে যোগদান করার পায়তারা করছেন। ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির নির্যাতিত ত্যাগী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, জিলানী বিএনপিতে যোগ দেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের অর্থের লোভ দেখাচ্ছে।  গত ১৫বছর বিএনপির নেতাদের নির্যাতন করেছেন জিলানী চৌধুরী। এখন আবার সে পিঠ বাঁচাতে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসতে চায়। আমরা নির্যাতিত কর্মী এসব সুযোগবাদী বিষফোঁড়া নেতাদের দলে আসতে দেয়া হবে না। এরা এতোদিন টেন্ডারবাজী থেকে শুরু করে সব কর্মকান্ড করেছে ওয়ার্ডে।

 

অপরদিকে স্থানীয়রা বলেন, টাক খোকন  নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সরকার থেকে নানা সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। নিজেই খোকন সেরনিয়াবাতের ও এমপি জাহিদ ফারুকের নির্বাচনীয় সমন্বয়ক ছিলেন। ওয়ার্ডে পুরো দুইটি নির্বাচন জিলানী ও টাক খোকনের দায়িত্বে ছিলেন।

কিন্তু তারা দুইহাতে লক্ষ লক্ষ লুটপাট করেও বর্তমান শরীরে হাওয়া লাগিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।  নেই কোন মামলা।

 

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার সরকার পাতানো নির্বাচন বর্জন করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর ডায়াবেটিস হাসপাতালে সামনে লিফলেট বিতরন করে এসময় জিলানী চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫/২০ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে আহত করেন।

 

এসময় সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম মোল্লা মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। যে আঘাতে এখন তিনি একটি চোখে কম দেখে ও মাথায় যন্ত্রণাদায়ক ব্যাথা অনুভব করেন।

 

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা জিলানী ও খোকনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা সমালোচনা চলছে। সেখানে মহানগর বিএনপির মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম লিখেছেন,এরা আওয়ামী লীগের লোক অনেক ঝামেলা করছে ১৮ ইলেকশনে ১৪ ইলেকশনে এদের জ্বালায় রাস্তায় হাঁটতেও পারিনি আমাদের পুলিশ দিয়ে ধাওয়া করেছে এই জেলানী এই খোকন অথচ তাদের নামে মামলা হয় না। তারা এখনো ওপেন টেন্ডারবাজি করে আসছে।

 

এবিষয় ১০নং ওয়ার্ডে বিএনপির এক নেতা সময়ের বার্তাকে বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে কোন অচেনা, অন্য দল থেকে আসা বা সুযোগবাদী কেউকেই নেয়া হবে না। আমরা সেদিকে সজাগ আছি। জিলানী চৌধুরী যোগাদান করবে আমার এবিষয় জানা নাই। আর ইচ্ছে করলেই কেউ বিএনপিতে যোগদান করতে পারবেন না। আর আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে যদি কোন সুযোগবাদীর  সাক্ষাৎ থাকে সেবিষয়ও আমরা তদন্ত  করবো।

এবিষয় জিলানীর মুঠোফোনে কর দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ও টাক খোকনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয় নি।

তবে সাধারন এলাকাবাসীর দাবি সুযোগবাদী হিটলার জিলানী ও খোকন ওরফে টাক খোকন যেন বিএনপি দলকে বিপদে ফেলতে না পারে। সে দিকে নেতাদের খেলায় রাখতে হবে। সূত্র দৈনিক সময়ের বার্তা।