সংবাদ প্রকাশের পর – অবৈধ রেণুপোনা পাচারের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারিতে ‘বিপ্লব’

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকার নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে রেণু পোনা পাচারের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে প্রশাসনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

 

প্রশাসনের ওই সূত্র জানায়, রেণু পোনা পাচারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ রেণু পোনা পরিবহন ও পাচারের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিপ্লব বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসীম দেওয়ানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তিনি বরিশাল মহানগর যুবলীগের সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে গেলেও বিপ্লবকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে তিনি প্রশাসনের নথিতে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও প্রভাবশালী একটি মহলকে ম্যানেজ করে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের আঁধারে রেণু পোনা পরিবহন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বিপ্লব। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রেণু পোনা পরিবহনের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত একটি চক্রের সঙ্গে বিপ্লবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই চক্রের মাধ্যমে বরিশাল নগরী থেকে বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা অবৈধভাবে পরিবহন ও পাচার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি নথি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পোনা পরিবহন ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কখনো সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, আবার কখনো সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলায় বিপ্লবের নাম এসেছে। এরপর যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে ব্যবহার করে অবৈধ পোনা বাণিজ্য পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছে কয়েকটি সূত্র। এমনকি প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পোনা বহনকারী গাড়ি ধরিয়ে দেওয়ার পর একই পোনা অন্য পথে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রেণু পোনা পাচার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে রেণু পোনা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

সংবাদ প্রকাশের পর – অবৈধ রেণুপোনা পাচারের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারিতে ‘বিপ্লব’

সংবাদ প্রকাশের পর – অবৈধ রেণুপোনা পাচারের অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারিতে ‘বিপ্লব’

আপডেট সময় : ০৮:০২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকার নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে রেণু পোনা পাচারের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে প্রশাসনের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

 

প্রশাসনের ওই সূত্র জানায়, রেণু পোনা পাচারের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ রেণু পোনা পরিবহন ও পাচারের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিপ্লব বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসীম দেওয়ানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তিনি বরিশাল মহানগর যুবলীগের সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ একাধিক মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে গেলেও বিপ্লবকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে তিনি প্রশাসনের নথিতে পলাতক বা আত্মগোপনে রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরও প্রভাবশালী একটি মহলকে ম্যানেজ করে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের আঁধারে রেণু পোনা পরিবহন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বিপ্লব। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রেণু পোনা পরিবহনের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলের বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত একটি চক্রের সঙ্গে বিপ্লবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ওই চক্রের মাধ্যমে বরিশাল নগরী থেকে বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা অবৈধভাবে পরিবহন ও পাচার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সরকারি নথি বা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

 

একাধিক সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পোনা পরিবহন ও পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কখনো সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, আবার কখনো সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

আরও অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলায় বিপ্লবের নাম এসেছে। এরপর যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীকে ব্যবহার করে অবৈধ পোনা বাণিজ্য পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছে কয়েকটি সূত্র। এমনকি প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পোনা বহনকারী গাড়ি ধরিয়ে দেওয়ার পর একই পোনা অন্য পথে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রেণু পোনা পাচার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে রেণু পোনা পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম বিপ্লব ওরফে ‘রেণু বিপ্লব’-এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।