
বার্তা টাইমস বিডি ডেস্ক ঃ জনস্বার্থে রিট করে আলোচনায় বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি মাছুদুর রহমান আসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল।
বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটেছে মহামান্য হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার মাধ্যমে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে বরিশাল জেলা প্রশাসন চেম্বার অব কমার্সকে বেআইনিভাবে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার অনুমতি প্রদান করে, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জনস্বার্থে এ বিষয়ে সরব হয় মানবাধিকার সংগঠন “বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি”। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রথমে বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত দরখাস্ত প্রদান করে পরেশ সাগর স্কুল মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন না করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালা ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করে এ ধরনের মেলার অনুমতি প্রদান আইনসম্মত নয় এবং বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্টের নজরে আনা হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব আবেদন ও নোটিশের পরও জেলা প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বাণিজ্য মেলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। রিট আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ পরাজিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর মূল বেঞ্চে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আশিফ হাসান এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
রিটকারী ছিলেন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোঃ রনি শিকদার। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ জাকির হোসেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায় শুধু একটি বাণিজ্য মেলা বন্ধের বিষয় নয়; বরং এটি জনস্বার্থ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে রিটের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পরাজয়ের ঘটনায় বরিশালজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদকের নাম 












