ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগরীর পলাশপুরে পিতা পুত্রের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ট পুরো ওয়ার্ড!

স্টাফ রিপোর্টারঃঃ বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ড পলাশপুরে এক যুবককে মব সৃষ্টি করে পিটিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতারা। এমনটি অভিযোগ করে ওই আহত যুবকের বাবা।

আহত রাব্বি মিয়া (২৭) সে ৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পলাশপুর প্রধান সড়কের বাসিন্দা আলী মিয়ার ছেলে।

জানাযায়, গত ৩ নভেম্বর অনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় রাব্বি মিয়া (২৭) এনজিওর টাকা উত্তলন করে বাসায় ফেরার সময় পথিমধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার ( ১৯),আরাফাত হোসেন জিসান ( ২২)সহ অজ্ঞাতনামা ১৫জন মিলে পথ অবরোধ করেন। পরে মব সৃষ্টি করে রাব্বিকে মারধর করে। আহত রাব্বি ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে রাব্বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আহত রাব্বি বলেন, আমার চাচার সাথে আমাদের দীর্ঘদিন  ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চাচার সাথে মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।  সেই পূর্বের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খানের অনুসারী আরাফাত হোসেন জিসান ও তার ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার সহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে আমার উপর হামলা চালায়। আমাকে মারধর করে আমার সাথে থাকা এনজিওর ৩১ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমাকে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , পলাশপুরে পিতা ও পুত্ররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। অভিযুক্ত মাসুম হাওলাদার (৪৮) ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন। ওয়ার্ডে নিজে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল বানিজ্য, সুদের ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন তিনি। করেছেন একেরপর অভিভাবক পরিবর্তন।  রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। এছাড়াও ৫নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে চালিয়ে আসছে চাঁদাবাজি,অর্থের বিনিময়ে শালিসি ও থানায় কোন সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী আটক হলেই ছাড়িয়ে আনার চুক্তি ।  আর  এসব বিষয় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দরা।

গত ৫ আগস্টের পর নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরীজুড়ে। এ যেন সিনেমার শক্তিম্যান চরিত্র ধারন করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে নিজে বিএনপির সাবেক কমিটিতে থেকেও ছেলে আরিফ ও জিসানকে দিয়েছেন করিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতি।

একটি ছবিতে দেখাযায়, ছাত্রলীগ নেতা রাজিব খানের সাথে গত ৩ আগস্ট এক দফারে কবর দে দাবিতে দেশীয় অন্ত্রসহ মাঠে ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ।

এর পূর্বে বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নগরীর চৌ মাথায় রোডে হামলার ঘটনায় দা হাতে উপস্থিত ছিলেন আরিফ।

 

এদিকে আহতর বাবা আলী মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাই মাসুম হাওলাদার ৫ তারিখের পর বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে আমার হাটখোলার কাঠের দোকান দখল করে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তার ছেলেদের দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে। সে এলাকায় সুদ মাসুম নামে পরিচিত। এমন কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নাই যে সে করে না। আমার ছেলেকে মারধর করার পর তার ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ আরিফ হুমকি দিয়ে আসছে। মাসুম নিজেকে কমিউনিটি পুলিশে পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তার ভয় এলাকার কেউ মুখ খুলতে নারাজ। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আমার ছেলের উপর হামলার বিচার চাই। আমি এবিষয় মামলা করবো প্রস্ততি চলছে।

এবিষয়   বিএনপি কাউনিয়া থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, মারামারির বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া কেউ এখনো এবিষয় কোন অভিযোগ করেনি। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনকানুন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আইনি সেবা পেতে কোন ভুক্তভোগীকে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। যদি কেউ বাঁধা দেয় তবে আমার সামনে এসে বলুক আমি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

জনপ্রিয়

বরিশালের পরেশ সাগর স্কুল মাঠে বাণিজ্য মেলা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ।

নগরীর পলাশপুরে পিতা পুত্রের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ট পুরো ওয়ার্ড!

আপডেট সময় : ০২:০০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টারঃঃ বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ড পলাশপুরে এক যুবককে মব সৃষ্টি করে পিটিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতারা। এমনটি অভিযোগ করে ওই আহত যুবকের বাবা।

আহত রাব্বি মিয়া (২৭) সে ৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ পলাশপুর প্রধান সড়কের বাসিন্দা আলী মিয়ার ছেলে।

জানাযায়, গত ৩ নভেম্বর অনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় রাব্বি মিয়া (২৭) এনজিওর টাকা উত্তলন করে বাসায় ফেরার সময় পথিমধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার ( ১৯),আরাফাত হোসেন জিসান ( ২২)সহ অজ্ঞাতনামা ১৫জন মিলে পথ অবরোধ করেন। পরে মব সৃষ্টি করে রাব্বিকে মারধর করে। আহত রাব্বি ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে রাব্বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আহত রাব্বি বলেন, আমার চাচার সাথে আমাদের দীর্ঘদিন  ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চাচার সাথে মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।  সেই পূর্বের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খানের অনুসারী আরাফাত হোসেন জিসান ও তার ভাই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার সহ ১৫ থেকে ২০ জন মিলে আমার উপর হামলা চালায়। আমাকে মারধর করে আমার সাথে থাকা এনজিওর ৩১ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমাকে পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায় , পলাশপুরে পিতা ও পুত্ররা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। অভিযুক্ত মাসুম হাওলাদার (৪৮) ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন। ওয়ার্ডে নিজে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল বানিজ্য, সুদের ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন তিনি। করেছেন একেরপর অভিভাবক পরিবর্তন।  রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। এছাড়াও ৫নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে চালিয়ে আসছে চাঁদাবাজি,অর্থের বিনিময়ে শালিসি ও থানায় কোন সন্ত্রাসী বা মাদক ব্যবসায়ী আটক হলেই ছাড়িয়ে আনার চুক্তি ।  আর  এসব বিষয় অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দরা।

গত ৫ আগস্টের পর নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরীজুড়ে। এ যেন সিনেমার শক্তিম্যান চরিত্র ধারন করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে নিজে বিএনপির সাবেক কমিটিতে থেকেও ছেলে আরিফ ও জিসানকে দিয়েছেন করিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতি।

একটি ছবিতে দেখাযায়, ছাত্রলীগ নেতা রাজিব খানের সাথে গত ৩ আগস্ট এক দফারে কবর দে দাবিতে দেশীয় অন্ত্রসহ মাঠে ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আরিফ।

এর পূর্বে বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নগরীর চৌ মাথায় রোডে হামলার ঘটনায় দা হাতে উপস্থিত ছিলেন আরিফ।

 

এদিকে আহতর বাবা আলী মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাই মাসুম হাওলাদার ৫ তারিখের পর বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে আমার হাটখোলার কাঠের দোকান দখল করে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তার ছেলেদের দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছে। সে এলাকায় সুদ মাসুম নামে পরিচিত। এমন কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নাই যে সে করে না। আমার ছেলেকে মারধর করার পর তার ছেলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ আরিফ হুমকি দিয়ে আসছে। মাসুম নিজেকে কমিউনিটি পুলিশে পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তার ভয় এলাকার কেউ মুখ খুলতে নারাজ। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, আমার ছেলের উপর হামলার বিচার চাই। আমি এবিষয় মামলা করবো প্রস্ততি চলছে।

এবিষয়   বিএনপি কাউনিয়া থানার  অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, মারামারির বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া কেউ এখনো এবিষয় কোন অভিযোগ করেনি। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনকানুন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আইনি সেবা পেতে কোন ভুক্তভোগীকে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। যদি কেউ বাঁধা দেয় তবে আমার সামনে এসে বলুক আমি সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।