ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল সদর নৌ পুলিশের সহযোগীতায় প্রকাশ্যে মাঝি শহিদুলের জাল বিক্রির ধুম! 

বার্তা টাইমস বিডি ডেস্ক ঃঃ বরিশাল সদর নৌ পুলিশের সহযোগীতায় মাঝি শহিদুলের অভিযানের জাল বিক্রির ধুম পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

মা ইলিশ অভিযানে নদী থেকে অবৈধ জাল জব্দ করে সেই জালই জেলেদের বিক্রি করছে মাঝি শহিদুল ও তার সহযোগীরা। আর এসব ঘটনা নৌ পুলিশের চোখের সামনে ঘটে চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষোভ জানিয়েছে সাধারণ জেলেরা।

জানা যায়, গত  ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ২৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত বলবৎ  থাকবে। অভিযানের এই সময়তে মা ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ, পরিবহন এবং বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল দপ্তর। মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

অনন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বরিশাল সদর নৌ পুলিশও মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলমান আছে।  তারাও কাজ করছে একযোগে। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে বরিশাল নৌ পুলিশের একাধিক অফিসার, নায়েক, ও মাঝিদের ব্যক্তিগত অনিয়ম ও চাঁদাবাজির কারনে সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে বাঁধা গ্রস্ত হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ভিন্নতা।  সরেজমিনে দেখাযায়, বরিশাল সদর নৌ পুলিশের ওসি,  এসআই এক কনস্টেবলের সহযোগিতায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার অবৈধ জাল বিক্রি করেছেন মাঝি শহিদুল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন নৌ থানা পুলিশ।

দেখা যায়, বন্দর থানাধীন চরকাউয়া ইউনিয়নের জনতার হাট নামক স্থানে একটি ইটভাটার পাশেই একটি ঘরে নৌ পুলিশের মাঝি শহিদুল বিপুল পরিমান জাল মজুদ করে রেখেছে এবং বিক্রি করছে।  পরে ওই স্থানে সংবাকর্মীরা উপস্থিত হলে শহিদুল সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে শহিদুলের কাছে জাল কিনতে আসা এক জেলেকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, ভাই আমার কোন দোষ নাই আমি জেলে জাল কিনতে এসেছি। এখানে ৪ হাজার টাকা দিয়ে জালটা কিনেছি। নৌ থানা পুলিশের বর্তমান মাঝি শহিদুল ও সাবেক মাঝি কালু এই জাল বিক্রি করেছে। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সংবাদকর্মীরা। যার পুরো অডিও ও ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জেলে বলেন,মা ইলিশ অভিযানে প্রায় ৩ থেকে ৪লক্ষ টাকার জাল বিক্রি করেছে শহিদুল। আর মাছ সব নৌ পুলিশের বাসায়। নৌ পুলিশের সহযোগিতায় এমন কর্মকান্ডের বিষয় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারন জেলেরা। তারা আরো বলেন, আমার জাল জব্দ করে আবার আমাদের কাছেই বিক্রি করছে থানার মাঝিরা। আর সাথে দুই পুলিশ সদস্য জড়িত আছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মুঠোফোনে বলেন,  গত ১১ তারিখ রাতে মা ইলিশ অভিযানে নদী থেকে জব্দকৃত জাল শায়েস্তাবাদ আরিফ প্যাদা নামক ব্যক্তির কাছে নগদ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি,১৩ তারিখ চরকাউয়ায় ১৭ হাজার টাকার, ১৭ তারিখে পামের হাট ৩৪ হাজার টাকার অবৈধ জাল বিক্রি করেন নৌ পুলিশের মাঝি শহিদুল। এছাড়াও চরকাউয়া জনতার হাট একটি ইটভাটার পাশে ঘরে প্রায় দেড় টাকার  নৌ পুলিশের জব্দকৃত অবৈধ জাল মজুদ রয়েছে। যার যথেষ্ট প্রমানসহ ভিডিও ও অডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এবিষয় মাঝি শহিদুল বলেন, ভাই আমি ট্রলার ভাড়া দেই। আমি কোন রকম ডিউটি করে চলতে আছি। জাল বিক্রির বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ভাই আপনার যা দরকার দিবো আপনি চরকাউয়া আসেন। তারপরও নিউজ কইরে না। তবে শহিদুলের সহযোগী মাঝি কালু জাল বিক্রির বিষয় স্বিকার করে বলেন, ভাই আপনি আসেন সংবাদ প্রকাশ করা লাগবে না আপনাকে চা নাস্তার খরচ দিবো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নদী থেকে অভিযানের জব্দকৃত জাল না পুড়িয়ে সেই জালই মাঝির মাধ্যমে বিক্রি করেন নৌ পুলিশের নায়েক সোহেলসহ একাধিক পুলিশ সদস্য । আর এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন ওসি নিজেই।

তবে এবিষয় নৌ সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তিনি বলেন, আপনারা শহিদুলকে হাতেনাতে ধরেন। শহিদুলের বিষয় আমাদের কোন মন্তব্য নেই। তার কাছ থেকে বোর্ট আমরা ভাড়া নিয়েছি।

সূত্রে গত আগষ্ট মাসে নায়েক সোহেল, মাঝি শহিদুল,  সাল্লু,  ৪০ টি নিষিদ্ধ চায়না চাই আটক করে চরমোনাই এলাকায় হিরন নামক এক ব্যক্তির নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ঐ দিন দুইজন আসামি ছেড়ে দেওয়া হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে।  এভাবেই চলছে তাদের এই সঙ্ঘবদ্ধ  সিন্ডিকেটের একটি শক্তিশালী গ্রুপ । তারা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা ফলে তাদের অনিয়ম এখন রীতিমতো নিয়মে পরিনত হয়েছে। বরিশাল নৌ থানার নায়েক সোহেল যিনি কিনা ওসির থেকেও বেশি প্রভাবশালী। যার মাসিক আয় কয়েক লক্ষ টাকা। নির্ভর যোগ্য সূত্রে এই তথ্য গুলো নিশ্চিত করা গেছে ও অডিও কল রেকর্ড রয়েছে। যার ২য় পর্বে থাকছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

এবিষয় (বরিশাল রিজিয়ন) নৌ পুলিশ সুপার বলেন, মাঝি জাল পেলো কি ভাবে? বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোন  অবৈধ কাজে জড়িত কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।

Tag :
About Author Information

Barta Times bd

জনপ্রিয়

বরিশালের পরেশ সাগর স্কুল মাঠে বাণিজ্য মেলা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ।

বরিশাল সদর নৌ পুলিশের সহযোগীতায় প্রকাশ্যে মাঝি শহিদুলের জাল বিক্রির ধুম! 

আপডেট সময় : ০৯:১৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

বার্তা টাইমস বিডি ডেস্ক ঃঃ বরিশাল সদর নৌ পুলিশের সহযোগীতায় মাঝি শহিদুলের অভিযানের জাল বিক্রির ধুম পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

মা ইলিশ অভিযানে নদী থেকে অবৈধ জাল জব্দ করে সেই জালই জেলেদের বিক্রি করছে মাঝি শহিদুল ও তার সহযোগীরা। আর এসব ঘটনা নৌ পুলিশের চোখের সামনে ঘটে চলছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষোভ জানিয়েছে সাধারণ জেলেরা।

জানা যায়, গত  ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান ২৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত বলবৎ  থাকবে। অভিযানের এই সময়তে মা ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ, পরিবহন এবং বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায় বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল দপ্তর। মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

অনন্য প্রশাসনের পাশাপাশি বরিশাল সদর নৌ পুলিশও মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চলমান আছে।  তারাও কাজ করছে একযোগে। কিন্তু বিপত্তি হচ্ছে বরিশাল নৌ পুলিশের একাধিক অফিসার, নায়েক, ও মাঝিদের ব্যক্তিগত অনিয়ম ও চাঁদাবাজির কারনে সরকারের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে বাঁধা গ্রস্ত হয়েছে।

তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ভিন্নতা।  সরেজমিনে দেখাযায়, বরিশাল সদর নৌ পুলিশের ওসি,  এসআই এক কনস্টেবলের সহযোগিতায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার অবৈধ জাল বিক্রি করেছেন মাঝি শহিদুল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন নৌ থানা পুলিশ।

দেখা যায়, বন্দর থানাধীন চরকাউয়া ইউনিয়নের জনতার হাট নামক স্থানে একটি ইটভাটার পাশেই একটি ঘরে নৌ পুলিশের মাঝি শহিদুল বিপুল পরিমান জাল মজুদ করে রেখেছে এবং বিক্রি করছে।  পরে ওই স্থানে সংবাকর্মীরা উপস্থিত হলে শহিদুল সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে শহিদুলের কাছে জাল কিনতে আসা এক জেলেকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, ভাই আমার কোন দোষ নাই আমি জেলে জাল কিনতে এসেছি। এখানে ৪ হাজার টাকা দিয়ে জালটা কিনেছি। নৌ থানা পুলিশের বর্তমান মাঝি শহিদুল ও সাবেক মাঝি কালু এই জাল বিক্রি করেছে। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সংবাদকর্মীরা। যার পুরো অডিও ও ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক জেলে বলেন,মা ইলিশ অভিযানে প্রায় ৩ থেকে ৪লক্ষ টাকার জাল বিক্রি করেছে শহিদুল। আর মাছ সব নৌ পুলিশের বাসায়। নৌ পুলিশের সহযোগিতায় এমন কর্মকান্ডের বিষয় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারন জেলেরা। তারা আরো বলেন, আমার জাল জব্দ করে আবার আমাদের কাছেই বিক্রি করছে থানার মাঝিরা। আর সাথে দুই পুলিশ সদস্য জড়িত আছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে মুঠোফোনে বলেন,  গত ১১ তারিখ রাতে মা ইলিশ অভিযানে নদী থেকে জব্দকৃত জাল শায়েস্তাবাদ আরিফ প্যাদা নামক ব্যক্তির কাছে নগদ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি,১৩ তারিখ চরকাউয়ায় ১৭ হাজার টাকার, ১৭ তারিখে পামের হাট ৩৪ হাজার টাকার অবৈধ জাল বিক্রি করেন নৌ পুলিশের মাঝি শহিদুল। এছাড়াও চরকাউয়া জনতার হাট একটি ইটভাটার পাশে ঘরে প্রায় দেড় টাকার  নৌ পুলিশের জব্দকৃত অবৈধ জাল মজুদ রয়েছে। যার যথেষ্ট প্রমানসহ ভিডিও ও অডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এবিষয় মাঝি শহিদুল বলেন, ভাই আমি ট্রলার ভাড়া দেই। আমি কোন রকম ডিউটি করে চলতে আছি। জাল বিক্রির বিষয় প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ভাই আপনার যা দরকার দিবো আপনি চরকাউয়া আসেন। তারপরও নিউজ কইরে না। তবে শহিদুলের সহযোগী মাঝি কালু জাল বিক্রির বিষয় স্বিকার করে বলেন, ভাই আপনি আসেন সংবাদ প্রকাশ করা লাগবে না আপনাকে চা নাস্তার খরচ দিবো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নদী থেকে অভিযানের জব্দকৃত জাল না পুড়িয়ে সেই জালই মাঝির মাধ্যমে বিক্রি করেন নৌ পুলিশের নায়েক সোহেলসহ একাধিক পুলিশ সদস্য । আর এসব দেখেও না দেখার ভান করছেন ওসি নিজেই।

তবে এবিষয় নৌ সদর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তিনি বলেন, আপনারা শহিদুলকে হাতেনাতে ধরেন। শহিদুলের বিষয় আমাদের কোন মন্তব্য নেই। তার কাছ থেকে বোর্ট আমরা ভাড়া নিয়েছি।

সূত্রে গত আগষ্ট মাসে নায়েক সোহেল, মাঝি শহিদুল,  সাল্লু,  ৪০ টি নিষিদ্ধ চায়না চাই আটক করে চরমোনাই এলাকায় হিরন নামক এক ব্যক্তির নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ঐ দিন দুইজন আসামি ছেড়ে দেওয়া হয় ৬ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে।  এভাবেই চলছে তাদের এই সঙ্ঘবদ্ধ  সিন্ডিকেটের একটি শক্তিশালী গ্রুপ । তারা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা ফলে তাদের অনিয়ম এখন রীতিমতো নিয়মে পরিনত হয়েছে। বরিশাল নৌ থানার নায়েক সোহেল যিনি কিনা ওসির থেকেও বেশি প্রভাবশালী। যার মাসিক আয় কয়েক লক্ষ টাকা। নির্ভর যোগ্য সূত্রে এই তথ্য গুলো নিশ্চিত করা গেছে ও অডিও কল রেকর্ড রয়েছে। যার ২য় পর্বে থাকছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

এবিষয় (বরিশাল রিজিয়ন) নৌ পুলিশ সুপার বলেন, মাঝি জাল পেলো কি ভাবে? বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোন  অবৈধ কাজে জড়িত কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।