আল আমিন গাজী :
খাদ্য অধিদপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বরিশালের বিভিন্ন এলাকার চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল ডিসি অফিসের সাবেক কর্মচারী ও বর্তমানে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত অফিস সহকারী জুয়েল মল্লিকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক ভুক্তভোগী সুমা আক্তার গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বরিশাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হিজলা, বরিশাল এবং বরিশাল প্রেসক্লাবসহ ৫ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী সুমা আক্তার জানান, ২০২৫ সালে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগকে কেন্দ্র করে জুয়েল মল্লিক বরিশালের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৬০ জন চাকরিপ্রত্যাশীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা এবং তার এক কাজিনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তার কাজিনের কাছ থেকে সিটি ব্যাংকের ‘জুয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি হিসাব নম্বর ১২২৩৬৫১৯৯৫০০১, রাউটিং নম্বর ২২৫০৬০২৮৩-এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিজ হাতে ১ লাখ টাকা গুনে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী জানান, তার কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ টাকার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা তার এক স্বজনের মাধ্যমে জুয়েল মল্লিকের ওই বিকাশ নম্বর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে বাকি টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাদের ফোন নম্বর ব্লকলিস্ট করে রাখা হয়েছে। ফলে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের কাগজপত্র এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি অভিযোগে আরও জানান, ‘জুয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে সিটি ব্যাংকের হিসাবের লেনদেন যাচাই করা হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাবে। একজন পিওনের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় জুয়েল মল্লিকের নিজ নামে ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালনা, একাধিক ব্যাংক হিসাব এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রভাবিত করতে তিনি নিজেকে ডিসি অফিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
জুয়েল মল্লিকের ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বর হিসেবে ০১৭১২০৭৭৯.. উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নম্বরসহ ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেনের সকল ডকুমেন্ট তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
স্থানীয়রা জানান, ডিসি অফিসের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জুয়েল মল্লিক বরিশালের উজিরপুরে তার গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সরকারি চাকরিতে থেকে ঠিকাদারি লাইসেন্স পরিচালনা, একাধিক ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বিপুল অর্থ লেনদেনের বিষয়েও তদন্তের দাবি করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা। কারণ, জুয়েল মল্লিকের চাচা শাখাওয়াত মল্লিকের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। জুয়েল মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়োগ বাণিজ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, “আমরা জুয়েলের বিষয়ে কিছু ডকুমেন্টস ও অভিযোগ পেয়েছি। আমি ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিচ্ছি। সত্যতা পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, ভুক্তভোগী তার লিখিত আবেদনে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। বিশেষ করে জুয়েল মল্লিকের ব্যাংক হিসাব, ‘জুয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে পরিচালিত হিসাব, বিকাশসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং চাকরির নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জুয়েল মল্লিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।