
আল আমিন গাজী ঃ বরিশালের হিজলা উপজেলা মৎস্য অফিসে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী-কাম- কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মৎস্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের মতো করে প্রভাব বিস্তার করে নদীর মাছঘাট, জেলে কার্ড এবং মেঘনায় চরঘেরা মশারি পাতাসহ বিভিন্ন কাজে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন তিনি। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন কদম আলী খা নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর অধীন ২১টি মাছঘাট থেকে প্রতি মাসে ঘাটপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। সেই হিসাবে মাসে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অভিযান পরিচালনার সময় ঘাটপ্রতি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু মাছঘাট নয়, নদীতে চরঘেরা মশারি পাতার ক্ষেত্রেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, কদম আলী খার মাধ্যমে প্রতি চর থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে রাকিবুল ইসলামের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সম্পৃক্ততার কিছু তথ্য ও স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এর মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাসিক মাসোয়ারা বাবদ রাকিবুল ইসলামের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরে ১৬ হাজার টাকা পাঠানোর একটি লেনদেনের ডকুমেন্টস পাওয়া গেছে।
এদিকে,নতুন জেলে কার্ড করতে আসা জেলেদের কাছ থেকেও প্রায় ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র জেলেদের অভিযোগ, নিয়মিত আয়ের সুযোগ কম থাকলেও বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ ঘাট মালিক ও জেলেরা স্থানীয় মাছঘাটের কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তারা ভয় পান। তাদের আশঙ্কা, অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে পরবর্তীতে নদীতে অভিযান চালিয়ে ঘাটের ব্যবসায়িক ক্ষতি করা হতে পারে। তবে এসব লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, প্রাপক ও অর্থের বৈধতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
একজন ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নদীতে মাছ নেই, ব্যবসায় লাভ নেই; তারপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা ধরনের হয়রানির আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় জেলে ছদ্মনাম বাবু বলেন, আমরা টাকা দিলে নদীতে নামতে পারি না দিলে জাল জব্দ করে। মাঝে মাঝে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেয় অফিসের রাকিবুল ইসলাম। আর এসব কাজের বিষয় কোনদিনই বাঁধা দেয় নি মৎস্য অফিসার আলম স্যার। তিনি আরো বলেন, মানতা থেকে শুরু করে সবাই মৎস্য অফিসে টাকা দিয়ে চলতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মরত একজন কম্পিউটার অপারেটর কীভাবে মাঠপর্যায়ে মাছঘাট, জেলে কার্ড ও নদীতে মশারি পাতার মতো বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে অর্থ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন—তা কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে হিজলা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমের 017694595.. নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে রাকিবুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে তার 01757-1248.. নাম্বারে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন উওর দেন নি।
এবিষয় বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.হাদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না।