বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ
বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. মামুন খন্দকার।
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে তিনি বিদায়ী জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের কাছ থেকে দায়িত্বভার বুঝে নেন।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে মো. মামুন খন্দকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২৯তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা।
এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আলম সুমনকে প্রত্যাহার করে তাঁর স্থলে মো. মামুন খন্দকারকে পদায়ন করা হয়। মাঠ প্রশাসন-২ শাখা এবং ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-২ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, খায়রুল আলম সুমনকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন খায়রুল আলম সুমন। তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। বরিশালের হিজলা-মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জে তিন উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোট কক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র দেখিয়ে ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে। ওই টাকা হালাল করতে বিভিন্ন বিলের সাথে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল ভাউচার গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বিচারিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এছাড়াও রির্টার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পরিবেশন, রির্টানিং অফিসার ও তার দপ্তর, নির্বাচন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পর্যাবেক্ষক টিমসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত ১৪ লক্ষাধিক টাকার এক পয়সাও খরচ করেননি বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত টাকার ভূয়া বিল ভাউচার করে নিজেই তা আত্মসাত করেছেন এমন আলোচনা ছিলো রিটনিং কর্মকর্তার কার্যালয় জুড়েই। একইভাবে বরিশাল সদর উপজেলাসহ ১০টি উপজেলায় নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচন পূর্ব অনিয়ম রোধে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণের লক্ষে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আপ্যায়ন বাবদ ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরোটাই আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তবে কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর প্রতিবাদের কারনে সামান্য অংশ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের দুই তৃতীয়াংশ টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় কেউই এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তথ্য পাচারেরর সন্দেহে ইতিমধ্যেই অনেককে অনত্র বদলী করেছেন বলেও অভিযোগ আছে। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে নতুন জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে বরিশালের প্রশাসনিক মহলে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন নাগরিক, সেবাপ্রত্যাশী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।