বার্তা টাইমস বিডি ডেস্কঃ মামলা তদন্তে ঘুষ গ্রহন ও ভূয়া তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করায় আইজিপি কমপ্লেইন সেল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর বন্দর থানার এসআই আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে এক জেলের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
(১২মে মঙ্গলবার) মেইল ও ডাক যোগে এ অভিযোগ পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভূক্তভোগী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিএমপি বন্দর থানায় একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকুরী করার সুবাদে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে এসআই আবদুল জলিল। জুয়া আসর, অবৈধ রেনুপোনা পাচারসহ বেশি কিছু অভিযোগে সহয়তাকারী হিসাবে অভিযোগে উঠছে এই এসআইর বিরুদ্ধে।
ভূক্তভোগী অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, আমি একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে খাই। আমি বর্তমানে খুব অসহায় ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোন রকম জীবনযাপন করে আসছি। আমার বাবা মোতালেব হাং ২৪ সালে মারা যায়। আমরা ২ ভাই চার বোন। আমার বাবার ২ শতাংশ সরকারী খাস জমি দখলে ছিলো। ওই জমিতে বসত ঘরে আমার একজন প্রতিবদ্ধী বোন ও এক ভাই বসবাস করতো।
আমাদের থাকার মত আর কোন জমি নাই। বাবার মৃত্যুর পর আমার বড়বোন মিনারা ও তার স্বামী নয়ন ভূয়া স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বসত ঘর দখল নেয় ও আমার প্রতিবন্ধী বোনকে ও ভাইকে নামিয়ে দেয়। পরে আমরা ৫ ভাইবোন মিলে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তারা সালিশির মাধ্যমে দখলদার মিনারাকে ২লক্ষ টাকা দিতে বলে। কয়েক মাস পরে আমার গরু ও বাকি ৪ভাইবোন মিলে আমি ২লক্ষ টাকা নিয়া গেলে আমাকে মিনারা ও নয়ন ও তাদের সহযোগীরা মারধর করে টাকা নিয়া যায়। যাহার সাক্ষী অনেক রয়েছে। তবে আমি ওই ঘটনায় বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করি যাহার- সিআর মামলা নং- ১৮/২০২৬ সেই মামলা বন্দর থানায় তদন্ত গেলে এসআই আব্দুল জলিল ( বিপি নং৭৭৯৬১৪৫৬৮০) তিনি আমার করার মামলার খরচ বাবদ ঘুষ গ্রহন করেন। পরে আমার বোন দখলদার মিনারার কাছ থেকে আরো ৪০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে আমার সিআর মামলার স্বাক্ষীদের না ডেকে তদন্ত না করে উল্টো আমার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদক দাখিল করেন যাহার প্রমান রয়েছে আমার কাছে ।
আমার মামলার স্বাক্ষীরা জানায় তাদের কাছে কোন তদন্ত অফিসার যায় নি। বরং আমার মামলার স্বাক্ষীদের ভুয়া জবানবন্দী আদালতে দাখিল করেছে। যাহার পুরো প্রমান আমার কাছে কল রেকর্ড রয়েছে। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে আমার বোন দখলদার মিনারার করা আদালতের সিআর মামলায় আমাকে অপরাধী হিসাবে উল্লেখ করেছে যা কোন সাক্ষী না নিয়ে ঘুষের বিনিময়ে করেছে তাহার প্রমান রয়েছে।
এবিষয় ভুক্তভোগী বেলাল সংবাদর্মীদের বলেন,
এসআই আবদুল জলিল ( বিপি নং৭৭৯৬১৪৫৬৮০) কে আমি ফোন দিয়ে মামলার ভুল তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়
জানতে কল দিলে তিনি আমাকে বলে থানায় এসে দেখা করো,ফোনে নয় সরাসরি কথা বলি । আর এসআই আবদুল জলিল ওই বন্দর থানায় ৮ বছর যাবৎ চাকুরী করে আসছে। একজন পুলিশের এসআই হয়ে তিনি ভুয়া মামলায় ও ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করে আইনকে অমান্য করেছেন। এসআই আবদুল জলিল বরিশালে দীর্ঘদিন চাকুরী করার সুবাদে এমন অপরাধে জড়িয়ে পরেছে বলে মন্তব্য করেছে এই ভূক্তভোগী।
তবে অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি থানায় এসে দেখা করে কথা বলা ও ভুল হয়েছে বলে জানায় এবং ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিবেন বলে জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূক্তভোগী বেলালের করার সিআর মামলার সাক্ষীদের ফোনে বা সরেজমিনে কোন স্বাক্ষ গ্রহন করে নি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল জলিল । একাধিক সাক্ষীকে ফোন দিলে তারা জানান, এসআই জলিল তদন্তকালে কারো সাথেই কথা বলেনি বরং উল্টো অভিযুক্ত মিনারা ও নয়ন গ্যাংদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূক্তভোগী বেলাল ও তার এক ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে মজার বিষয় হলো ভূক্তভোগী বেলালের করা সিআর মামলার সাক্ষীদের ভূয়া জনাববন্দী আদালতে দাখিল করেছেন এসআই জলিল। যা নিয়ে চন্দ্রমোহন ইউনিয়নে প্রশাসনের দায়িত্ব অবহেলা ও ঘুষ বানিজ্যের কথা সমলোচনা চলছে।