
এদিকে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান রেশনের চাল কেনাবেচার কোনও সুযোগ নেই উল্লেখ করে বলেছেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।
জানা গেছে, সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর পৌণে ২ টার দিকে খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাক্টরে ২০ মেট্রিক টন চল নিয়ে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে স্থানীয়দের প্রশ্নের মুখে পড়েন চালক। তখন জেলা পুলিশের নামে বরাদ্দ দেওয়া খাদ্য অধিদফতরের একটি বরাদ্দপত্র (ডিও) দেখান তিনি। সেখানে লেখা ছিল আমি এএসআই (নিঃ) মোশারেফ হোসেন, মেস ম্যানেজার, জেলা পুলিশ লাইন, বরিশাল। পুলিশ সদস্যদের বাজার খরচ বাবদ ১২ টন চাল বিক্রি করিলাম, চরমোনাই মাদ্রাসায়। তবে বরাদ্দপত্রে ১২ টন চালের কথা লেখা থাকলেও গাড়িতে ৪০০ বস্তায় ৫০ কেজির করে মোট ২০ টন চাল ছিল। পরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, জেলা পুলিশের রেশন স্টোর ইনচার্জ এসআই মনির স্যার ও মেস ম্যানেজার এএসআই মোশারেফ হোসেন স্যার আমাকে গাড়ির সাথে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আপনারা তাদের সাথে কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মোট ২০ মেট্রিক টন চাল গাড়িতে রয়েছে বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনার সকল ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
ট্রাক চালক বলেন, সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে এসব এনেছেন তিনি। এখানে চরমোনাই মাদ্রাসায় দেওয়ার নিয়ে এসেছেন।
জানা গেছে, পুলিশ প্রতি মাসে চাল, গম, চিনি, ডাল, তেলসহ যেসব পণ্য পেয়ে থাকে। রেশনের এসব পণ্য বাজারে বিক্রি করা অবৈধ। এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সরাসরি গ্রহণ করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, রেশনের চাল বিক্রিযোগ্য নাহলে এগুলো বিক্রি করা হলো কীভাবে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানান।
জেলা পুলিশের রেশন স্টোর ইনচার্জ এসআই মনির বলেন- চাল বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
মেস ম্যানেজার এএসআই মোশারেফ হোসেন মুঠোফোনে বলেন- চাল কবে চরমোনাই মাদ্রাসায় পাঠানো হয়েছে তা আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি বলে কলটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের রেশনের চাল কেনাবেচার কোনও সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা নেই। যেহেতু এখন জানলাম, সেহেতু বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।