
বার্তা টাইমস বিডি ডেস্ক ঃ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা টাইমস বিডিতে সংবাদ প্রকাশের পর চরকাউয়ায় লুনাবিকসসহ দুইটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার মনিরুল ইসলাম ছবি অবৈধ ভাবে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ইটভাটার পাজা তৈরি করে কাঠ পুড়িয়ে জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি পেয়ে ইটভাটার মালিক মনিরুল ইসলাম ছবি ও তার ম্যানেজার রকি পালিয়ে গেছে। তাদের অবৈধ কাচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে। কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নি। তবে পরবর্তীতে কঠোর আইনকানুন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগে সরকার ক্ষমতা দেখিয়ে অবৈধ ভাবে প্রায় ১৫ বছর যাবৎ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছিলো মনিরুল ইসলাম ছবি। তার ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস করতো না। পুরো সদর উপজেলায় ক্শতার অপব্যবহার করে দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
উল্লেখ্য, কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে লুনা ব্রিকস নামক ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে চরকাউয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি। সরকারের কোনো আইনকে তোয়াক্কা করছে না লুনা ব্রিকস।
গত বছরের (৪ ডিসেম্বর) অবৈধ লুনা ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে ইটের ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজ্জাদ জহির রাজু ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় প্রধান মোজাম্মেল হক আকন।
এ সময় লুনা ব্রিকসের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার রকি পালকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।তবে গুঁড়িয়ে দেয়ার পরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নতুন করে আবার নিযমনীতি ছাড়াই লক্ষ লক্ষ ইট প্রস্তুত করছে লুনা ব্রিকস।
সরেজমিনে ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, যদিও পাজা পদ্ধতিতে লুনা ব্রিকস কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনত নিষিদ্ধ, তবুও লুনা ব্রিকস কতৃপক্ষ আইনকে তোয়াক্কা না করে বনের কাঠ ব্যবহার করেন। সেখানে আইন অমান্য করে গড়ে উঠেছে আবারো ইটভাটা কৃষিজমির মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। বসতবাড়ির ও স্কুল আশপাশেও ইট পুড়ছে ইটভাটার পাজা। ইট বানাতে অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো হয় ওই ভাটায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়াও এতে স্থানীয়রা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। পাশাপাশি কাঠ পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে।বিশেষ করে লুনা ব্রিকসের পাশে বসতবাড়ি ও স্কুলের কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি। পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ ও কাঠ পোড়ানো বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে জানা স্থানীয়রা।
এবিষয় লুনা ব্রিকসের ম্যানেজার রকি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নামে এক সাংবাদিককের সাথে কর্মকর্তা এসে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। আর অন্য সাংবাদিকরা আসছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানি দিয়ে থাকি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কে টাকা নিয়েছে জানতে চাইছে তিনি তথ্য গোপন রাখতে গড়িমসি করেন। যার ভিডিও ও অডিও তথ্য প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
এবিষয় বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বার্তা টাইমস বিডিকে বলেন, আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইটের পাজা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেটা পুরোটাই অবৈধ। আমরা এবিষয় অভিযান পরিচালনা করবো। বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নাই। আমাদের জনবল কম,তাই কিছু অবৈধ ভাটা মালিক